বাংলাদেশের কৃষি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। কৃষিজমির পরিমাণ কমছে, উৎপাদন খরচ বাড়ছে, শ্রমিকের মজুরি প্রাপ্যতার সমস্যা তৈরি হচ্ছে এবং একই সঙ্গে নিরাপদ পরিবেশবান্ধব কৃষি উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। এই বাস্তবতায় কৃষিতে ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে বালাইনাশক স্প্রে একটি সম্ভাবনাময় আধুনিক প্রযুক্তি হিসেবে আলোচনায় এসেছে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলোবাংলাদেশের ক্ষুদ্র প্রান্তিক কৃষকের আর্থসামাজিক বাস্তবতায় ড্রোন দিয়ে বালাইনাশক স্প্রে করা কি সত্যিই লাভজনক। বিশেষজ্ঞের দৃষ্টিতে এর উত্তর হলোহ্যাঁ, ড্রোন প্রযুক্তি লাভজনক কৃষি উৎপাদনে সহায়ক হতে পারে; তবে ব্যক্তিগতভাবে প্রতিটি কৃষকের ড্রোন কেনা সবসময় অর্থনৈতিকভাবে যুক্তিসঙ্গত নয়। বরং সমবায়, উদ্যোক্তা বা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেড্রোন-এজ--সার্ভিসমডেলে ব্যবহার করাই বাংলাদেশের অধিকাংশ কৃষকের জন্য বাস্তবসম্মত। বাংলাদেশে বালাইনাশক ব্যবহারের সঙ্গে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় নিরাপত্তার বিষয়টি সরাসরি জড়িত। একটি বড় পরিসরের গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের ১৭টি জেলার ১০টি agro-ecological zone-এর ,০৮৩টি খামারের তথ্য বিশ্লেষণে ৭৫. শতাংশ কৃষক অন্তত একটি ফসলে বালাইনাশক ব্যবহার করেছেন।

ড্রোনে বালাইনাশক স্প্রে কী?

কৃষি ড্রোন হলো ছোট আকারের চালকবিহীন আকাশযান, যার সঙ্গে নির্দিষ্ট পরিমাণ তরল ধারণের ট্যাংক স্প্রে নোজল থাকে। এটি জমির ওপর নির্দিষ্ট উচ্চতায় উড়ে ফসলের ওপর বালাইনাশক, ছত্রাকনাশক বা অন্যান্য অনুমোদিত কৃষি-ইনপুট স্প্রে করতে পারে। প্রচলিত পদ্ধতিতে কৃষক বা শ্রমিককে কাঁধে স্প্রেয়ার বহন করে জমিতে হাঁটতে হয়। এতে সময় শ্রম লাগে এবং বালাইনাশকের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি থাকে। ড্রোন এই কাজটি জমির ওপর থেকে করতে পারে। বিশ্বব্যাংকের কৃষি-ড্রোন বিষয়ক বিশ্লেষণে দেখা যায়, নির্দিষ্ট আক্রান্ত এলাকায় লক্ষ্যভিত্তিক স্প্রে করলে পানি কৃষি-উপকরণের ব্যবহার কমানো এবং সময় সাশ্রয় করা সম্ভব। বড় জমিতে প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় ড্রোনের কার্যকারিতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

বাংলাদেশের কৃষকের আর্থসামাজিক বাস্তবতা

বাংলাদেশের অধিকাংশ কৃষকের জমির আকার তুলনামূলকভাবে ছোট এবং অনেক কৃষক নিজস্ব জমির পাশাপাশি বর্গা বা ইজারা জমিতে চাষ করেন। ফলে উচ্চমূল্যের প্রযুক্তি কেনার সক্ষমতা সবার নেই। এখানেই ড্রোন প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক প্রশ্নটি আসে। একজন ক্ষুদ্র কৃষক যদি শুধু নিজের কয়েক বিঘা জমির জন্য একটি ড্রোন কিনতে চান, তাহলে ড্রোনের ক্রয়মূল্য, ব্যাটারি, চার্জিং ব্যবস্থা, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ, সফটওয়্যার, অপারেটর এবং মেরামত খরচ মিলিয়ে বিনিয়োগটি সবসময় লাভজনক নাও হতে পারে। অন্যদিকে একজন উদ্যোক্তা যদি একটি ড্রোন কিনে আশপাশের ৫০, ১০০ বা তারও বেশি কৃষকের জমিতে ভাড়ায় স্প্রে সেবা দেন, তাহলে একই যন্ত্র বহু কৃষকের কাজে ব্যবহার করা সম্ভব। এতে কৃষকের জন্য এককালীন বড় বিনিয়োগের প্রয়োজন হয় না। বাংলাদেশে তাই ড্রোনের মালিকানা নয়, ড্রোন সেবা গ্রহণের মডেল বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ড্রোন ব্যবহারে কৃষকের কী সুবিধা হতে পারে:

. দ্রুত বড় এলাকা স্প্রে করা

ড্রোনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো দ্রুততার সঙ্গে জমিতে স্প্রে করা। বৃষ্টির আগে বা রোগ-পোকার আক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সময় সময়মতো বালাইনাশক প্রয়োগ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বড় জমিতে দ্রুত স্প্রে করার সক্ষমতা কৃষককে সময়মতো ফসল রক্ষায় সহায়তা করতে পারে। আন্তর্জাতিক গবেষণায় ড্রোনভিত্তিক কৃষি কার্যক্রমে প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় উল্লেখযোগ্য সময় সাশ্রয়ের সম্ভাবনা পাওয়া গেছে।

. শ্রমের ওপর নির্ভরতা কমানো

বাংলাদেশের কৃষিতে শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনের সময় শ্রমিক না পাওয়ার সমস্যা অনেক কৃষকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ড্রোন ব্যবহারের ফলে জমিতে শ্রমিক নিয়ে গিয়ে হাতে বা পিঠে স্প্রেয়ার বহন করে স্প্রে করার প্রয়োজন কমতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ড্রোন কৃষিতে সব শ্রমিকের প্রয়োজন শেষ করে দেবে। বরং শ্রমের ধরন পরিবর্তিত হবেড্রোন অপারেটর, প্রযুক্তিবিদ সেবা প্রদানকারীর নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

. কৃষকের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে পারে

প্রচলিত পদ্ধতিতে স্প্রে করার সময় কৃষক বা শ্রমিক সরাসরি বালাইনাশকের সংস্পর্শে আসতে পারেন। বাংলাদেশে ক্ষুদ্র সবজি চাষিদের মধ্যে বালাইনাশক ব্যবহারের নিরাপত্তা নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণায় স্বাস্থ্য পেশাগত ঝুঁকির বিষয়টি উঠে এসেছে।  ড্রোনে অপারেটরকে জমির মধ্যে ঢুকে সরাসরি স্প্রে করতে হয় না। ফলে সঠিকভাবে পরিচালিত হলে বালাইনাশকের সরাসরি সংস্পর্শ কমানোর সুযোগ রয়েছে। তবে ড্রোন ব্যবহার করলেই ঝুঁকি সম্পূর্ণ শূন্য হয় না বালাইনাশক মেশানো, ট্যাংক ভরা, যন্ত্র পরিষ্কার করা এবং অবশিষ্ট রাসায়নিক ব্যবস্থাপনার সময়ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হবে।

. নির্দিষ্ট এলাকায় লক্ষ্যভিত্তিক স্প্রে

ড্রোন প্রযুক্তির অন্যতম বড় সম্ভাবনা হলো precision application বা লক্ষ্যভিত্তিক প্রয়োগ। যদি কোনো জমির একটি নির্দিষ্ট অংশে রোগ বা পোকার আক্রমণ বেশি থাকে, ভবিষ্যতের উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি সেন্সরভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে শুধু আক্রান্ত এলাকায় স্প্রে করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে বালাইনাশকের অপচয় কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বব্যাংকও targeted drone spraying-এর মাধ্যমে ইনপুট, পানি ব্যয়ের দক্ষতা বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছে।  তবে বর্তমানে বাংলাদেশে ব্যবহৃত প্রতিটি ড্রোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে রোগ শনাক্ত করে নির্দিষ্ট জায়গায় স্প্রে করেএমন ধারণা করা ঠিক হবে না। অনেক ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত অপারেটরকে আগে থেকেই স্প্রে এলাকার সীমানা নির্ধারণ করতে হয়।

. ফসলের ক্ষতি কমানো

ধান, গম বা অন্যান্য ফসলের জমিতে অনেক সময় ফসল বড় হয়ে গেলে কৃষকের পক্ষে জমির ভেতরে ঢুকে স্প্রে করা কঠিন হয়। জমিতে হাঁটলে গাছের ক্ষতি হতে পারে। ড্রোন আকাশপথে স্প্রে করায় এই ধরনের ক্ষতি কমানোর সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ঘন ফসল বা কাদাযুক্ত জমিতে এর ব্যবহার কার্যকর হতে পারে।


ড্রোন কি সব কৃষকের জন্য লাভজনক?

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলোপ্রযুক্তি ভালো হলেই সেটি প্রত্যেক কৃষকের জন্য অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে, এমন নয়। বাংলাদেশের একজন ক্ষুদ্র কৃষকের জন্য ড্রোন কেনার চেয়ে স্থানীয় ড্রোন সেবা গ্রহণ করা বেশি লাভজনক হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, একজন কৃষকের মাত্র কয়েক বিঘা জমি থাকলে নিজের ড্রোন কেনার পরিবর্তে ইউনিয়ন বা উপজেলা পর্যায়ের কোনো উদ্যোক্তার কাছ থেকে প্রতি বিঘা বা প্রতি একর হিসেবে স্প্রে সেবা নেওয়া অর্থনৈতিকভাবে বেশি যৌক্তিক হতে পারে। ধরনের Custom Hiring বা ভাড়াভিত্তিক কৃষিযন্ত্র সেবা বাংলাদেশে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রেও গবেষণায় দেখা গেছে, মালিকানার পাশাপাশি custom hiring অর্থনৈতিক সুবিধা দিতে পারে।

ড্রোন ব্যবহারের প্রধান সীমাবদ্ধতা

ড্রোন প্রযুক্তির সম্ভাবনা থাকলেও কয়েকটি বাস্তব সমস্যা রয়েছে।

প্রথমতপ্রাথমিক বিনিয়োগ বেশি। ভালো মানের কৃষি ড্রোন, অতিরিক্ত ব্যাটারি, চার্জিং ব্যবস্থা আনুষঙ্গিক সরঞ্জামের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থ প্রয়োজন।

দ্বিতীয়তদক্ষ অপারেটর প্রয়োজন। ভুল উচ্চতা, গতি, নোজল সেটিং বা বাতাসের পরিস্থিতিতে স্প্রে করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া নাও যেতে পারে।

তৃতীয়তআবহাওয়ার প্রভাব রয়েছে। প্রবল বাতাস, বৃষ্টি বা প্রতিকূল আবহাওয়ায় ড্রোনে স্প্রে করা ঝুঁকিপূর্ণ অকার্যকর হতে পারে।

চতুর্থতবালাইনাশকের ভুল ব্যবহার এখনও বড় সমস্যা। ড্রোন শুধু প্রয়োগের মাধ্যম পরিবর্তন করে; রোগ বা পোকা শনাক্ত না করে অপ্রয়োজনীয় বালাইনাশক স্প্রে করলে ড্রোন প্রযুক্তি কৃষকের লাভ বাড়াবে না। কারণেই IPM বা সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনাকে ড্রোন প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। বাংলাদেশে IPM গ্রহণ করলে বালাইনাশক প্রয়োগের খরচ কমে এবং কৃষকের নিট আয় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছেকুমড়া/শসা জাতীয় সবজি উৎপাদন নিয়ে একটি বাংলাদেশি গবেষণাতেও এমন ফল পাওয়া গেছে।


বাংলাদেশের জন্য কোন মডেল সবচেয়ে উপযোগী

আমার মত হলো, বাংলাদেশের জন্য এক কৃষকএক ড্রোনমডেলের পরিবর্তেএক উদ্যোক্তাঅনেক কৃষকমডেল বেশি উপযোগী। এক্ষেত্রে একজন প্রশিক্ষিত যুবক বা কৃষি উদ্যোক্তা ড্রোন কিনে একটি ইউনিয়ন, কয়েকটি গ্রাম বা একটি উপজেলা এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে স্প্রে সেবা দিতে পারেন।

এতে

  • কৃষকের নিজস্ব ড্রোন কেনার প্রয়োজন হবে না;
  • একাধিক কৃষক একই প্রযুক্তির সুবিধা পাবেন;
  • উদ্যোক্তার কর্মসংস্থান তৈরি হবে;
  • প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে;
  • কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার দক্ষ হবে;
  • কৃষকের সময় শ্রম সাশ্রয় হতে পারে।

সমবায় সমিতি, কৃষক উৎপাদক সংগঠন, কৃষি উদ্যোক্তা, বেসরকারি কৃষি সেবা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে ধরনের মডেল গড়ে তোলা যেতে পারে।

ড্রোন ব্যবহারের আগে কৃষকের করণীয়

ড্রোনে বালাইনাশক স্প্রে করার আগে কৃষককে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে।

. প্রথমে রোগ বা পোকা সঠিকভাবে শনাক্ত করতে হবে।

. অপ্রয়োজনে বালাইনাশক ব্যবহার করা যাবে না।

. সংশ্লিষ্ট ফসলের জন্য অনুমোদিত বালাইনাশক ব্যবহার করতে হবে।

. ডোজ, পানির পরিমাণ স্প্রে-সংক্রান্ত নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

. বাতাসের গতি আবহাওয়া বিবেচনা করতে হবে।

. প্রশিক্ষিত দায়িত্বশীল ড্রোন অপারেটর দিয়ে কাজ করাতে হবে।

. বসতবাড়ি, বিদ্যালয়, খামার, মাছের ঘের জলাশয়ের কাছে স্প্রে করার সময় বিশেষ সতর্কতা নিতে হবে।

. ফসল সংগ্রহের আগে নির্ধারিত অপেক্ষাকাল অবশ্যই মানতে হবে।

. ড্রোন স্প্রে করলেও প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা বজায় রাখতে হবে।


ড্রোন প্রযুক্তি কি কৃষকের লাভ বাড়াবে:

শুধু ড্রোন ব্যবহার করলেই লাভ বাড়বে না। লাভ বাড়বে তখনই, যখন ড্রোনের মাধ্যমে সময়, শ্রম, পানি বালাইনাশকের ব্যবহার দক্ষভাবে কমানো যাবে এবং একই সঙ্গে রোগ-পোকা নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হবে। বাংলাদেশের কৃষিতে বালাইনাশক খরচ কমানো এবং নিরাপদ ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণ হিসেবে, বাংলাদেশের বেগুন চাষ নিয়ে একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কম বালাইনাশক প্রয়োগের সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় কমে এবং নিট আয় বাড়তে পারে। তাই ড্রোনকে বালাইনাশক ব্যবহারের বিকল্প নয়, বরং বালাই ব্যবস্থাপনার একটি উন্নত প্রয়োগ প্রযুক্তি হিসেবে দেখতে হবে।


নীতিনির্ধারকদের করণীয়

বাংলাদেশে ড্রোন প্রযুক্তির সুফল কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে কয়েকটি উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

প্রথমত, উপজেলা পর্যায়ে ড্রোন সেবা কেন্দ্র বা Custom Hiring Center গড়ে তোলা যেতে পারে।

দ্বিতীয়ত, কৃষি উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ড্রোন অপারেটর হিসেবে তৈরি করা যেতে পারে।

তৃতীয়ত, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে স্থানীয় ফসল জমির জন্য ড্রোন স্প্রের কার্যকারিতা নিয়ে মাঠপর্যায়ের গবেষণা করা প্রয়োজন।

চতুর্থত, ড্রোনে কোন ধরনের বালাইনাশক, কী মাত্রায়, কোন ফসলের কোন পর্যায়ে এবং কোন আবহাওয়ায় ব্যবহার নিরাপদ কার্যকরএসব বিষয়ে বাংলাদেশভিত্তিক সুপারিশ তৈরি করা প্রয়োজন।

পঞ্চমত, ড্রোন সেবা চালুর পাশাপাশি কৃষকদের IPM, নিরাপদ বালাইনাশক ব্যবহার এবং পরিবেশ সুরক্ষা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।


উপসংহার

বাংলাদেশের কৃষির বর্তমান আর্থসামাজিক বাস্তবতায় ড্রোনের মাধ্যমে বালাইনাশক স্প্রে একটি সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি, বিশেষ করে যেখানে দ্রুত স্প্রে, শ্রম সাশ্রয়, কৃষকের রাসায়নিক সংস্পর্শ কমানো এবং লক্ষ্যভিত্তিক প্রয়োগের প্রয়োজন রয়েছে। তবে বাংলাদেশের অধিকাংশ ক্ষুদ্র কৃষকের জন্য ব্যক্তিগতভাবে ড্রোন কেনা এখনই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান নয়। ভাড়াভিত্তিক ড্রোন সেবা, কৃষক সমবায়, কৃষক উৎপাদক সংগঠন স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তার মাধ্যমে ড্রোন সেবা সম্প্রসারণ করলে প্রযুক্তিটি অধিক সংখ্যক কৃষকের কাছে পৌঁছানো সম্ভব।  সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ড্রোনকে শুধুমাত্রদ্রুত বালাইনাশক ছিটানোর যন্ত্রহিসেবে দেখা যাবে না। এটিকে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা, নির্ভুল কৃষি, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং কৃষি যান্ত্রিকীকরণের একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। সঠিক রোগ-পোকা শনাক্তকরণ + IPM + প্রশিক্ষিত অপারেটর + সঠিক ডোজ + উপযুক্ত আবহাওয়া + ভাড়াভিত্তিক সেবাএই সমন্বয়ই বাংলাদেশে ড্রোনভিত্তিক বালাইনাশক স্প্রেকে প্রকৃত অর্থে লাভজনক কৃষি প্রযুক্তিতে পরিণত করতে পারে।

তথ্যসূ্ত্র

  • বাংলাদেশি কৃষিতে বালাইনাশক ব্যবহারের আর্থসামাজিক agro-ecological determinants বিষয়ক গবেষণা।
  • বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের IPM শসা উৎপাদনের অর্থনৈতিক প্রভাব বিষয়ক গবেষণা।
  • বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বেগুন চাষে বালাইনাশক ব্যবহার কৃষকের আয় বিষয়ক গবেষণা।
  • World Bank—Agriculture- Drone Technology Precision Spraying বিষয়ক বিশ্লেষণ।
  • ২০২৬ সালের বাংলাদেশি ক্ষুদ্র সবজি চাষিদের বালাইনাশক ব্যবস্থাপনা পেশাগত ঝুঁকি বিষয়ক গবেষণা।