ভূমিকা

বাংলাদেশের কৃষিতে নারিকেল শুধু একটি ফল নয়; এটি একই সঙ্গে পুষ্টি গ্রামীণ অর্থনীতি, ডাবের বাজার, তেল বিভিন্ন শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল। দেশের উপকূলীয় দক্ষিণাঞ্চলে নারিকেল চাষের দীর্ঘ ঐতিহ্য থাকলেও প্রচলিত অনেক জাতের গাছ দীর্ঘাকৃতির হওয়ায় পরিচর্যা, রোগ-পোকা ব্যবস্থাপনা এবং ফল সংগ্রহ তুলনামূলক কঠিন। এই বাস্তবতায় অপেক্ষাকৃত খাটো, দ্রুত ফলধারণকারী নারিকেলের জাত কৃষকদের মধ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বাংলাদেশে ভিয়েতনাম থেকে আনা Siam Green Coconut Siam Blue Coconut নামের খাটো জাত বিশেষভাবে আলোচিত। কৃষি তথ্য সার্ভিসের প্রকাশনায় ভিয়েতনাম থেকে আনা এসব জাতকে Siam-1 Siam-2 নামেও উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, উপযুক্ত পরিচর্যায় এসব গাছে প্রায় আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে ফল আসতে পারে। তবে একটি বিষয় শুরুতেই স্পষ্ট করা প্রয়োজনবাজারেভিয়েতনামী নারিকেলনামে নানা ধরনের চারা বিক্রি হয়। তাই শুধু নাম শুনে চারা কেনা নয়; জাতের পরিচয়, মাতৃগাছ, উৎপাদনকারী নার্সারি চারার উৎস যাচাই করাই সফল বাগানের প্রথম শর্ত।

ভিয়েতনামী খাটো নারিকেলের জাতের নাম

বাংলাদেশে চাষের জন্য ভিয়েতনাম থেকে সংগৃহীত প্রধান দুটি খাটো জাত হলো. Siam Green Coconut, . Siam Blue Coconut. কৃষি তথ্য সার্ভিসের সরকারি প্রকাশনায় এই দুই জাতের আগমনের কথা উল্লেখ রয়েছে। অন্য একটি সরকারি কৃষি প্রকাশনায় বলা হয়েছে, ভিয়েতনাম থেকে সিয়াম গ্রিন সিয়াম ব্লু জাতের চারা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। Siam Green মূলত সবুজ ডাবের জন্য জনপ্রিয়। Siam Blue- ডাব উৎপাদনের জন্য পরিচিত। উভয় জাতের অন্যতম আকর্ষণ হলো তুলনামূলক কম উচ্চতা দ্রুত ফলধারণ। তবে বিভিন্ন নার্সারি বা ব্যবসায়িক উৎসে ফলন, ফলের সংখ্যা পানির পরিমাণ নিয়ে যে উচ্চমাত্রার দাবি করা হয়, সেগুলোকে সব জমি সব চারার জন্য নিশ্চিত ফলন হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

ভিয়েতনামী নারিকেলের চারা কোথা থেকে সংগ্রহ করবেন

চারা সংগ্রহের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সতর্কতা প্রয়োজন। কারণ ভালো জাতের নারিকেল বাগান প্রতিষ্ঠার পরও যদি চারা জাতভ্রষ্ট হয়, তাহলে কৃষক প্রত্যাশিত ফলন পাবেন না। কৃষি তথ্য সার্ভিসের প্রকাশনায় হর্টিকালচার সেন্টারের মাধ্যমে খাটো জাতের নারিকেলের চারা সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অতীতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ভিয়েতনাম থেকে চারা এনে দেশের বিভিন্ন হর্টিকালচার সেন্টারের মাধ্যমে সম্প্রসারণ করা হয়েছিল। তাই চারা সংগ্রহের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত

  • কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট হর্টিকালচার সেন্টার;
  • সরকারি বা অনুমোদিত নার্সারি;
  • জাতের পরিচয় মাতৃগাছের তথ্য দিতে সক্ষম প্রতিষ্ঠিত নার্সারি;
  • সুস্থ, সবল পরিচিত মাতৃগাছ থেকে উৎপাদিত চারা।

চারা কেনার সময় অবশ্যই জানতে হবেমাতৃগাছ কোন জাতের, কত বছর বয়সী, ফলন কেমন এবং চারা কোথা থেকে উৎপাদন করা হয়েছে।

বাংলাদেশের কোন এলাকায় ভিয়েতনামী নারিকেল চাষ উপযোগী

দক্ষিণ উপকূলীয় বাংলাদেশের পরিবেশ নারিকেলের জন্য স্বাভাবিকভাবেই উপযোগী। বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, বাগেরহাট, খুলনা, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে খাটো নারিকেলের চাষ সম্প্রসারণের তথ্য রয়েছে। সরকারি কৃষি তথ্য সার্ভিসও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খাটো জাতের নারিকেল সম্প্রসারণের কথা উল্লেখ করেছে। তবে জলাবদ্ধতা অতিরিক্ত লবণাক্ততাকে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। জমিতে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকলে নারিকেলের শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার মাত্রা পরীক্ষা করে জমি নির্বাচন করা উত্তম।

মাটি নির্বাচন

ভিয়েতনামী খাটো নারিকেলের জন্য সুনিষ্কাশিত দো-আঁশ থেকে বেলে দো-আঁশ মাটি সবচেয়ে উপযোগী। মাটিতে পর্যাপ্ত জৈব পদার্থ থাকা ভালো এবং জমিতে দিনের অধিকাংশ সময় পর্যাপ্ত সূর্যালোক পাওয়া প্রয়োজন। নিচু জমিতে চাষ করলে পানি নিষ্কাশনের জন্য নালা তৈরি করতে হবে। অত্যন্ত জলাবদ্ধ জমিতে উঁচু বেড বা সর্জান পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। বাংলাদেশে খাটো ভিয়েতনামী নারিকেলের সঙ্গে সর্জান পদ্ধতি ব্যবহারের উদাহরণও রয়েছে।

ভিয়েতনামী খাটো নারিকেল রোপণের সঠিক সময়

বাংলাদেশে নারিকেল চারা রোপণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হলোজুন থেকে সেপ্টেম্বর। বিশেষ করে বর্ষার আগে এক পশলা ভালো বৃষ্টি হওয়ার পর মধ্য জ্যৈষ্ঠ থেকে মধ্য আষাঢ় বা জুন মাস এবং বর্ষা শেষে মধ্য ভাদ্র থেকে মধ্য আশ্বিন বা সেপ্টেম্বর মাস চারা রোপণের উপযোগী। তবে জমিতে পানি জমে থাকা অবস্থায় চারা লাগানো উচিত নয়। বরং মাটিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকবে কিন্তু অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশিত হয়ে যাবেএমন সময় নির্বাচন করতে হবে।

রোপণের দূরত্ব

প্রকৃত খাটো জাতের নারিকেলের জন্য সাধারণভাবে × মিটার দূরত্ব সুপারিশ করা যায়। এতে প্রতি হেক্টরে প্রায় ২৭৮টি চারা বসানো যায়। কৃষি তথ্য সার্ভিসের প্রকাশনাতেও × মিটার দূরত্বের কথা উল্লেখ রয়েছে। বড় বাগানে জমির ধরন ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী × মিটার দূরত্বও ব্যবহার করা যেতে পারে। অতিরিক্ত ঘন করে গাছ লাগালে ভবিষ্যতে আলো-বাতাসের ঘাটতি এবং পরিচর্যার সমস্যা হতে পারে।

গর্ত তৈরি প্রস্তুতি

নারিকেল বাগান স্থাপনের জন্য ফুট × ফুট × ফুট, অর্থাৎ প্রায় মিটার × মিটার × মিটার গর্ত করা ভালো। কৃষি তথ্য সার্ভিসের খাটো নারিকেল চাষ নির্দেশনাতেও এই মাপের গর্তের কথা বলা হয়েছে। রোপণের অন্তত দুই থেকে তিন সপ্তাহ আগে গর্ত তৈরি করলে ভালো। গর্তের মাটি কিছুদিন রোদে শুকিয়ে নিয়ে ওপরের উর্বর মাটি আলাদা করতে হবে। প্রতি গর্তে প্রাথমিকভাবে ১৫২০ কেজি ভালোভাবে পচা গোবর বা কম্পোস্ট মাটির সঙ্গে মিশিয়ে গর্ত ভরাট করা যায়। বাণিজ্যিক বাগানে মাটি পরীক্ষা করে ফসফরাস, পটাশ, সালফার, জিংক বোরনের প্রয়োজন নির্ধারণ করা অধিক বৈজ্ঞানিক। অতিরিক্ত রাসায়নিক সার বা কীটনাশক গর্তে প্রয়োগ করা উচিত নয়।

সার প্রয়োগ পরিমাণ

নারিকেলের সার ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গাছের বয়স অনুযায়ী পুষ্টি সরবরাহ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের Fertilizer Recommendation Guide-2024- নারিকেলের জন্য বয়সভিত্তিক N, P, K, S, Zn B-এর পুষ্টি সুপারিশ দেওয়া হয়েছে। BARI নারিকেলের জন্য সরকারি সুপারিশকে একটি বৈজ্ঞানিক ভিত্তি হিসেবে ধরে বছর বয়সী গাছে প্রতি বছর প্রায় ১০০ গ্রাম N, ৩০ গ্রাম P, ২০০ গ্রাম K, ২০ গ্রাম S, ১০ গ্রাম Zn গ্রাম B, সঙ্গে প্রায় ১০ কেজি জৈব সার দেওয়ার সুপারিশ রয়েছে। বছর বয়সে তা বেড়ে প্রায় ১৫০ গ্রাম N, ৫০ গ্রাম P, ২৫০ গ্রাম K, ৩০ গ্রাম S, ১৫ গ্রাম Zn গ্রাম B, সঙ্গে প্রায় ১৫ কেজি জৈব সার হয়। এই পুষ্টি মাত্রাকে প্রচলিত সারে রূপান্তর করলে প্রথম বছরে আনুমানিক ২২০ গ্রাম ইউরিয়া, ৬৫ গ্রাম TSP এবং ৩৩০ গ্রাম MOP-এর সমপরিমাণ হতে পারে; দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ বছরে আনুমানিক ৩৩০ গ্রাম ইউরিয়া, ১০৯ গ্রাম TSP ৪২০ গ্রাম MOP-এর সমপরিমাণ প্রয়োজন হতে পারে। এগুলো আনুমানিক রূপান্তরমাটি পরীক্ষার ফল, সারের প্রকৃত গ্রেড স্থানীয় সুপারিশ অনুযায়ী মাত্রা সংশোধন করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই FRG-2024 মাত্রাগুলো BARI Narikel-1 BARI Narikel-2-এর জন্য সরকারি সুপারিশ; Siam Green বা Siam Blue-এর জন্য আলাদা জাতভিত্তিক নতুন গবেষণা-সুপারিশ পাওয়া না গেলে এগুলোকে অন্ধভাবে চূড়ান্ত ডোজ হিসেবে নয়, বরং নারিকেলের পুষ্টি ব্যবস্থাপনার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা উচিত।

সার প্রয়োগের সময় পদ্ধতি

রোপণের আগে গর্তে সুপারিশকৃত জৈব রাসায়নিক সার মাটির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হয়। FRG-2024 অনুযায়ী রোপণের পর সার সাধারণত দুই কিস্তিতেএপ্রিল-মে এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবর প্রয়োগ করা যায়। একক গাছের ক্ষেত্রে কাণ্ড থেকে অন্তত মিটার দূরে বৃত্তাকারে সার প্রয়োগ করে ১৫২০ সেন্টিমিটার গভীরে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে সেচ দেওয়া যায়। কাণ্ডের একেবারে গোড়ায় ইউরিয়া বা পটাশ দেওয়া উচিত নয়। গাছ বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সার প্রয়োগের বৃত্তও ধীরে ধীরে বাইরে সরাতে হবে।

চারা রোপণের পদ্ধতি

গর্তের মাঝখানে চারা বসাতে হবে। চারার গোড়া বা নারিকেলের খোসা-সংলগ্ন অংশ যেন অতিরিক্ত গভীরে চাপা না পড়ে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। কৃষি তথ্য সার্ভিসের নির্দেশনায় চারার গোড়ার অংশ মাটির ওপরে রাখার কথা বলা হয়েছে।

চারা বসানোর পর চারপাশের মাটি ভালোভাবে চেপে দিতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ দিতে হবে। বাতাসে চারা নড়াচড়া করলে বাঁশের খুঁটি দিয়ে সাময়িকভাবে সাপোর্ট দেওয়া যায়।

সেচ মালচিং

রোপণের প্রথম ছর নিয়মিত সেচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুষ্ক মৌসুমে মাটির আর্দ্রতা অনুযায়ী সেচ দিতে হবে। তবে নারিকেল জলাবদ্ধতা সহ্য করে না। তাই সেচের পাশাপাশি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। গাছের চারপাশে শুকনো পাতা, খড়, নারিকেলের ছোবড়া বা অন্যান্য জৈব উপাদান দিয়ে মালচিং করলে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা, আগাছা নিয়ন্ত্রণ এবং জৈব পদার্থ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

আগাছা দমন বাগান পরিচর্যা

গাছের চারপাশ নিয়মিত আগাছামুক্ত রাখতে হবে। তবে নারিকেলের শিকড় তুলনামূলকভাবে মাটির ওপরের স্তরে বিস্তৃত হওয়ায় গাছের খুব কাছে গভীরভাবে কোদাল চালানো ঠিক নয়। প্রতি বছর গাছের চারপাশের বেসিন পরিষ্কার করে জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে। শুকনো রোগাক্রান্ত পাতা পরিষ্কার করে বাগানের বাইরে সরিয়ে ফেলতে হবে।

রোগ পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা

ভিয়েতনামী খাটো নারিকেলকে রোগ-পোকামুক্ত জাত মনে করা ভুল। নারিকেলে রাইনোসেরস বিটল, মাইট, সাদা মাছি, কুঁড়ি পচা বিভিন্ন ছত্রাকজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। ভিয়েতনামী জাতের ক্ষেত্রেও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ জরুরি। প্রথমে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন বাগান, আক্রান্ত অংশ অপসারণ, সুষম সার প্রয়োগ, সঠিক নিষ্কাশন এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। প্রয়োজন হলে বাংলাদেশে বর্তমানে অনুমোদিত বালাইনাশক স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ লেবেল নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহার করতে হবে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, পুরোনো কিছু চাষ নির্দেশনায় ফুরাডান/কার্বোফুরান বা বাসুডিন ব্যবহারের কথা পাওয়া যায়। বর্তমান সময়ে এসব পুরোনো নির্দেশনা অনুসরণ করে নিজের সিদ্ধান্তে ঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক ব্যবহার করা উচিত নয়।

ফলধারণ ফলন

ভিয়েতনামী খাটো নারিকেলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তুলনামূলক দ্রুত ফলধারণ। সরকারি কৃষি তথ্য সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী Siam-1 Siam-2 ধরনের গাছে প্রায় আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে ফল আসতে পারে এবং গাছপ্রতি গড়ে প্রায় ১৫০টি নারিকেলের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এটিকে নিশ্চয়তাপ্রাপ্ত ফলন হিসেবে প্রচার করা ঠিক হবে না। জাতের বিশুদ্ধতা, মাটি, আবহাওয়া, সেচ, সার, রোগ-পোকা, পরাগায়ন পরিচর্যার ওপর ফলন ব্যাপকভাবে নির্ভর করে। বাংলাদেশে কিছু ভিয়েতনামী নারিকেল প্রকল্প প্রত্যাশিত ফলন দিতে ব্যর্থ হওয়ার ঘটনাও প্রকাশিত হয়েছে। অতএব বাণিজ্যিক বাগান স্থাপনের আগে ছোট পরিসরে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করে স্থানীয় ফলন বাজারদর যাচাই করা বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত।

খাটো গাছ হওয়ায় ফল সংগ্রহ তুলনামূলক সহজ, পরিচর্যা পর্যবেক্ষণ সুবিধা

কেন ভিয়েতনামী খাটো নারিকেল চাষ করবেন

জনক এবং দ্রুত ফলধারণের সম্ভাবনা থাকায় জাত বাণিজ্যিক ডাব উৎপাদনের জন্য আকর্ষণীয়। দেশের প্রচলিত লম্বা জাতের তুলনায় এই বৈশিষ্ট্যগুলো কৃষকের শ্রম ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমাতেও সহায়ক হতে পারে। তবে লাভজনক বাগানের মূল চাবিকাঠি হলো ভালো চারা, সঠিক জমি, পর্যাপ্ত নিষ্কাশন, সুষম সার, নিয়মিত সেচ এবং সময়মতো রোগ-পোকা ব্যবস্থাপনা

উপসংহার

বাংলাদেশে ভিয়েতনামী খাটো জাতের নারিকেলবিশেষ করে Siam Green Siam Blueউচ্চমূল্যের ডাব নারিকেল উৎপাদনে সম্ভাবনাময় একটি জাতগোষ্ঠী। ২০১৫ সালের দিকে ভিয়েতনাম থেকে এসব জাত দেশে আনা হয় এবং পরবর্তী সময়ে উপকূলীয় অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রসারণ করা হয়েছে। তবে সফলতা শুধু উন্নত জাতের ওপর নির্ভর করে না। জুনসেপ্টেম্বরের উপযুক্ত সময়ে রোপণ, × × ফুট গর্ত, সঠিক দূরত্ব, পর্যাপ্ত জৈব সার, মাটি পরীক্ষাভিত্তিক রাসায়নিক সার, নিয়মিত সেচ, ভালো নিষ্কাশন, মালচিং এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনাসবকিছুর সমন্বিত প্রয়োগই একটি নারিকেল বাগানকে লাভজনক করে তুলতে পারে। সবশেষে বলা যায়, ভিয়েতনামী খাটো নারিকেল বাংলাদেশের কৃষিতে একটি সম্ভাবনাময় নতুন সংযোজন হলেও ভিয়েতনামীনামের চেয়ে চারার জাতগত বিশুদ্ধতা মান অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ তাই বিশ্বস্ত উৎস থেকে চারা সংগ্রহ করে স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শ এবং বর্তমান সার সুপারিশ অনুসরণ করেই বাণিজ্যিক বাগান স্থাপন করা উচিত।

তথ্যসূত্র

. কৃষি তথ্য সার্ভিস (AIS), কৃষি মন্ত্রণালয়উত্তরাঞ্চলে খাটো জাতের নারিকেল চাষ; খাটো জাতের নারিকেল চাষে করণীয়।
. কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (DAE)ভিয়েতনাম থেকে সংগৃহীত উন্নত খাটো (OP) জাতের নারিকেল চাষ পদ্ধতি।
. বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (BARC), Fertilizer Recommendation Guide-2024নারিকেলের বয়সভিত্তিক N, P, K, S, Zn, B জৈব সারের সুপারিশ।
. কৃষি তথ্য সার্ভিসবরিশালসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খাটো জাতের নারিকেল সম্প্রসারণের তথ্য।
. বাংলাদেশে ভিয়েতনামী নারিকেল চাষের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা সীমাবদ্ধতা বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন।